ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে ১২ গুণ
ঢাকায় মানুষ আসে ‘বানের লাহান’। সবার চাই মাথা গোঁজার ঠাঁই। যাঁরা একটু সামর্থ্যবান, তাঁরা চান নিজের ফ্ল্যাট। কিন্তু ফ্ল্যাটের দাম তো আকাশছোঁয়া। ১৮ বছর আগে যে ফ্ল্যাটের দাম ছিল ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা, এখন সেটির দাম কোটির কাছাকাছি।

আবাসন ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকাভেদে গত ১৮ বছরে ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে চার থেকে ১২ গুণ পর্যন্ত। এতে সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন। আবার দামভেদেও প্রকট হয়েছে এলাকাভিত্তিক বৈষম্য।

আস্ত বাড়ি নয়, এর পরিবর্তে ফ্ল্যাট কেনার সংস্কৃতি চালু হয়েছিল মূলত আশির দশকে। তারপরও আস্তে আস্তে তা আরও পোক্ত হয়েছে। শুরুতে এই খাতে ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম থাকলেও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও বেড়েছে। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে ১১টি প্রতিষ্ঠান মিলে সংগঠনটি গঠিত হয়। এখন এর সদস্যসংখ্যা এক সহস্রাধিক।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ঢাকার কাঠামো পরিকল্পনার (খসড়া) অনুযায়ী, ঢাকায় মোট আবাসের মাত্র ৭ শতাংশের জোগান দিয়েছে সরকার। ৫১ দশমিক ১৫ শতাংশ বাড়ি ব্যক্তি উদ্যোগে বানানো হয়েছে। বাকি ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভবনই তৈরি করেছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা।

দাম বেড়েছে ১২ গুণ
শেল্‌টেক্‌ ও অন্যান্য আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, দেড় যুগে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বারিধারা এলাকায়। এখানে ২০০০ সালে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ছিল ২ হাজার ১৫০ টাকা। ২০০৫ সালে বেড়ে হয় চার হাজার টাকা। আর এখন প্রতি বর্গফুটের দাম অন্তত ২২ হাজার টাকা। দাম বেড়েছে অন্য সব এলাকাতেই। মিরপুরে ২০০০ সালে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা, এখন চার গুণ বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার টাকা।

এমন মূল্যবৃদ্ধিকে অসহনীয় বলছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। তাঁর মতে, এটি অসহনীয় তবে অস্বাভাবিক নয়। জমির দুষ্প্রাপ্যতা ও একশ্রেণির মানুষের অস্বাভাবিক আয় বৃদ্ধি এর কারণ। আর রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন জমি ও নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।

শেল্‌টেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে (জুন মাস) নির্মাণসামগ্রীর দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রতিটি ইটের দাম পৌনে চার গুণের বেশি বেড়েছে, প্রকারভেদে বালুর দাম বেড়েছে প্রায় পৌনে দুই গুণ থেকে পাঁচ গুণ, সিমেন্টের দাম বেড়েছে প্রায় দুই গুণ এবং রডের দাম বেড়েছে অন্তত তিন গুণ।

ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজার মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে আছে কি না, জানতে চাইলে আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, প্রতি বর্গফুট যখন দুই হাজার টাকায় বিক্রি হতো, তখনো ফ্ল্যাট মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে ছিল না। এখনো নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নির্মাণসামগ্রী বা জমির মূল্যবৃদ্ধিই ফ্ল্যাটের মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী নয়। এর পেছনে বেহিসেবি টাকার প্রভাব আছে। আর সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে গোটা শহরে সমানভাবে উন্নয়ন না হওয়ায় এবং সামাজিক অবস্থানের (স্ট্যাটাস) কারণে এলাকাভিত্তিক বৈষম্য বেড়েছে।

বৈষম্যের চিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গেছে, ধানমন্ডিতে ২০০০ সালে ২ হাজার ৪০০ টাকা (প্রতি বর্গফুট) দামে ফ্ল্যাট পাওয়া যেত। গুলশানে তখন প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ছিল ২ হাজার ৪৫০ টাকা, বনানীতে ২ হাজার ২০০ টাকা, বাড়িধারায় ২ হাজার ১৫০ টাকা, শান্তিনগরে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এখন ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট কিনতে প্রতি বর্গফুটের জন্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা, গুলশানে ১৮ হাজার টাকা, বনানীতে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা আর শান্তিনগরে ৭ হাজার টাকার মতো ব্যয় হচ্ছে। এসব এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০০ সালে সব এলাকাতেই ফ্ল্যাটের দামে তেমন বৈষম্য ছিল না। কিন্তু দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাভিত্তিক বৈষম্যও প্রকট হয়েছে। ২০০০ সালে মোহাম্মদপুর ও বারিধারায় প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দামে পার্থক্য ছিল মাত্র ৩০০ টাকা। এখন সেই প্রতি বর্গফুটে হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, জমির মূল্যবৃদ্ধি ও এলাকার আবেদন এই বৈষম্যের মূলে। মোহাম্মদপুরে যে হারে জমির দাম বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে বারিধারায় জমির দাম বেড়েছে। আর এলাকার আবেদন নির্ভর করে পরিকল্পনা ও নাগরিক সেবার ওপর।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ হু হু করে ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার পেছনে কালোটাকার প্রভাবকেও দায়ী করেছেন। মধ্যবিত্তরা যাতে ফ্ল্যাট কিনতে পারেন, সে জন্য সরকারি উদ্যোগের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। তিনি বলেন, এ জন্য সরকারকে জমি বরাদ্দ ও নিবন্ধন ফি কমাতে হবে। ব্যাংকগুলোরও স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণসুবিধা দিতে হবে।

কর নীতি মধ্যবিত্তের পক্ষে নয়
ফ্ল্যাট কেনার কর নীতিতেও মধ্যবিত্তের জন্য কোনো সুখবর নেই। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের কম আয়তনের ফ্ল্যাট কেনায় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। আগে দেড় শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো, এখন ২ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এতে ৫০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনায় অন্তত ২৫ হাজার টাকা বেশি ভ্যাট দিতে হয়।

কালোটাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর আগে বাজেটে আয়কর অধ্যাদেশের ১৯ বিবিবিবিবি নামের একটি নতুন ধারা সংযোজন করে অপ্রদর্শিত আয় দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ দেওয়া আছে। এর ফলে কালোটাকার মালিকেরাই ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

চলতি বাজেট অনুযায়ী, গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকায় এখনো প্রতি বর্গমিটারে ১ হাজার ৬০০ টাকা কর দিতে হয়। ধানমন্ডি, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া, উত্তরা, বসুন্ধরা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এই কর ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটির অন্য এলাকার জন্য কর এক হাজার টাকা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান সামগ্রিক বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান আবাসন নীতি অতি ধনীর পক্ষে। এই শহরে যে দামের ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে, তা মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে নেই। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে যে আয় হয়, তা দিয়ে এত দামি ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব নয়। আবাসন ব্যবসায়ীরাও মধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট বানান না। কিন্তু ২০০৮ সালে যখন আবাসন নীতিমালা করা হয়েছিল, তাতে একটি ভবনে মধ্যবিত্তের জন্য বর্গফুটপ্রতি দাম তিন থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে কিছু ফ্ল্যাট রাখার শর্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটা বাতিল করা হয়। আবার গৃহঋণ নিয়ে মধ্যবিত্তের পক্ষে ফ্ল্যাট কেনাও সম্ভব নয়। গৃহঋণ মধ্যবিত্তের জন্য সারা জীবনের একটি বোঝা। এসব কারণে আবাসন নিয়ে এই শহরে বাস করা নাগরিকদের বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে।
Prothom Alo
06 October 2018

ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি
ফ্ল্যাট কিনতে সরকারি কর্মচারীরা ঋণ পাবেন ৫% সুদে

বাড়ি তৈরি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য সরকারি কর্মচারীদের ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা দিতে চার রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই ঋণের বিপরীতে সরকারি কর্মচারীদের সুদ দিতে হবে ৫ শতাংশ। প্রচলিত বাজার দরে সুদের হার যা-ই হোক না, ৫ শতাংশের বাইরের অংশটুকু রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়া হবে।

সচিবালয়ে আজ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা এমওইউতে সই করেন। সরকারের দিক থেকে সই করেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জাফরউদ্দীন। ভারপ্রাপ্ত অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকেই ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে সরকারের যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বেতন-ভাতা তোলার দিক থেকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে, তারাই ঋণের আবেদন আগে করতে পারবে।

অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, সব সরকারি কর্মচারীকে এ ঋণের আওতায় আনতে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে।

গত ৩০ জুলাই অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮’ জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি কর্মচারীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। তবে ৫৬ বছর বয়সী কর্মচারীরাও আবেদন করতে পারবেন। চাকরির গ্রেড অনুযায়ী ঋণ দেওয়া হবে ২০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঋণ পরিশোধের সর্বোচ্চ সময় ২০ বছর।
Prothom Alo
25 September 2018

গৃহঋণ মিলবে ৯ শতাংশ সুদে
গত ১ জুলাই থেকে কার্যকরের তারিখ উল্লেখ করে আজ-কালের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) গ্রাহকদের এখন সব জায়গায় বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ক্রয়ে ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ দিচ্ছে, যা আগে এর চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল।

বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ক্রয়ে সংস্থাটি এত দিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ফ্ল্যাট ঋণ ছাড়া সব ধরনের ঋণে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সুদহারে ঋণ দিত। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সব বিভাগীয় ও জেলা সদরে ঋণ দিত ১০ শতাংশ সুদে। উভয় ক্ষেত্রেই এবার অভিন্ন সুদের হারে ঋণ দেবে এই সংস্থা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএইচবিএফসির ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের প্রস্তাব অনুমোদন করে গত রোববার সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেবাশীষ চক্রবর্ত্তীকে একটি চিঠি দিয়েছে। এতে গত ১ জুলাই থেকে নতুন সুদহার কার্যকর করতে বলা হয়েছে। দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী এই চিঠি পেয়েছেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯ আগস্টের মধ্যে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর বিএইচবিএফসির পরিচালনা পর্ষদ ঋণের সুদ কমিয়ে আনার যৌক্তিকতা রয়েছে বলে একমত হয়। সে অনুযায়ী বিএইচবিএফসি গত ২৯ আগস্ট ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ বিতরণের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠায়। সেই অনুমোদনটিই মিলেছে গত রোববার।

২০০৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার অতি উন্নত এলাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যান্য উন্নত এলাকায় বিএইচবিএফসির দেওয়া গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ। ১১ বছর পর সংস্থাটি সুদের হার কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে কার্যকর করে ২০১৭ সালের ১ জুলাই। একই দিন থেকে ফ্ল্যাট ক্রয়ে দেওয়া ঋণের সুদহার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ কার্যকর করা হয়। উভয় সুদের হারই এখন ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

তবে টঙ্গী, সাভারসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে যে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সেটি অবশ্য এবার বদলানো হয়নি।

যেসব গ্রাহক এরই মধ্যে ১০ ও ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন হার কার্যকর হবে বলে বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে। তবে নতুন হারের সুযোগ নিতে গেলে অবশ্যই তাঁদের সব কিস্তি পরিশোধ থাকতে (আপ-টু-ডেট) হবে। কোনো গ্রাহক আপ-টু-ডেট না থাকলে, যে তারিখে আপ-টু-ডেট হবেন, তার পরের মাস থেকে তাঁর ঋণের ক্ষেত্রে নতুন হার কার্যকর হবে।

বিএইচবিএফসিতে বর্তমানে ৩২ হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছেন। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংস্থাটি ৪০১ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। একই সময়ে ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণ করেছে ৩৬২ কোটি টাকা ঋণ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে বিএইচবিএফসির চুক্তি অনুযায়ী চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য সংস্থাটির ঋণ মঞ্জুরের লক্ষ্যমাত্রা ৬০০ কোটি টাকা। আর বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ কোটি টাকা।

এদিকে বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনায় দেশব্যাপী ঋণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করতে ৩১টি নতুন শাখা খুলতে যাচ্ছে বিএইচবিএফসি। বর্তমানে আঞ্চলিক কার্যালয়সহ ২৯টি শাখা নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি। নতুন শাখাগুলো চালু হলে মোট শাখা দাঁড়াবে ৬০।

জানতে চাইলে দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গৃহঋণে নতুন সুদহারের সুযোগ নিয়ে স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা তাঁদের আবাসন স্বপ্নপূরণ করুক-এটাই আমাদের চাওয়া। কাল-পরশুর মধ্যে (আজ ও আগামীকাল) এ ব্যাপারে বিএইচবিএফসির পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’
The Daily Prothom Alo
19 September 2018

গৃহনির্মাণ ঋণের আবেদন অক্টোবরে
শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মচারীরা এই ঋণ পাবেন.চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কেউ পাবেন না.সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৭৫ লাখ ও সর্বনিম্ন ঋণ ২০ লাখ টাকা.পাঁচ শতাংশ সরল সুদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণের জন্য সরকারি কর্মচারীরা আগামী ১ অক্টোবর থেকেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।এর আগে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের (বিএইচবিএফসি) সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবে। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এমওইউ সই হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে গতকাল রোববার এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রমতে, আপাতত চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঠিক করা হলেও পরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গেও এই ঋণ বিতরণের বিষয়ে এমওইউ করার চিন্তা রয়েছে সরকারের।

তবে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হলেও তা পাওয়া অত সহজ হবে না বলে আশঙ্কা সরকারি কর্মচারীদের। কারণ, আবেদনপত্রের সঙ্গে বাধ্যতামূলক ইলেকট্রনিক করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র, বেতনের সনদ, সত্যায়িত ছবি, স্বাক্ষরসহ অনেক কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর চাকরি আছে—এমন সরকারি চাকরিজীবী বর্তমানে ৭ লাখ। তাঁদের মধ্যে ১০ শতাংশকে ঋণ দেওয়া হলেও বছরে আবেদনকারী দাঁড়াবে ৭০ হাজার জন। গড়ে প্রতিজনের ঋণ ৪০ লাখ টাকা ধরলেও বছরে ঋণের চাহিদা দাঁড়াবে ২৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারকে বছরে এক হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হবে। অর্থ বিভাগ ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা, ২০১৮’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ৩০ জুলাই। পরবর্তী দেড় মাসে তৈরি করা হয় ঋণ আবেদনের অভিন্ন ফরম। ঋণের জন্য আবেদনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি ঠিক করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতিমধ্যে এ–সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি। এমওইউ সই হলেই ঋণ দিতে শুরু করব।’

ব্যক্তিগত জমি
ব্যক্তিগত জমির ওপর বাড়ি তৈরি করতে চাইলে ঋণের আবেদনপত্রের সঙ্গে জমির মূল মালিকানা দলিল জমা দিতে হবে। শুধু তা–ই নয়, মালিকানা পরম্পরার তথ্যও দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সিএস, এসএ, আরএস এবং বিএস রেকর্ডের তথ্য। ব্রিটিশ আমলে ১৯৪০ সালে জরিপের মাধ্যমে যে খতিয়ান তৈরি করা হয়েছিল, সেটি সিএস (কেথেড্রিয়াল সার্ভে)। এ দেশে জেলাভিত্তিক প্রথম নকশা ও ভূমি রেকর্ড করা হয় সিএসে।

সরকারি কর্মচারীদের এই ঋণ দিতে বছরে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। এসএ খতিয়ান (স্টেট একুইজিশন সার্ভে) করা হয় ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন অনুযায়ী। এটি হয় ১৯৫৬ থেকে ৬৩ সময়ে। এরপর বাংলাদেশ আমলে করা হয় আরএস (রিভিশনাল সার্ভে)। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সাধারণত আরএসের ওপর নির্ভর করা হয়। বিএস খতিয়ান বা সিটি জরিপ করা হয় ১৯৯৮–৯৯ সময়ে, যা এখনো চলমান। এ ছাড়া জেলা বা সাব–রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ১২ বছরের নির্দায় সনদ নিতে হবে। ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে মালিকানার দলিল জমা রাখতে হবে।

সরকারি প্লট
সরকারি প্লট বা সরকার থেকে ইজারা নেওয়া জমিতেও বাড়ি তৈরি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণ আবেদনের সঙ্গে প্রথমেই জমা দিতে হবে প্লটের বরাদ্দপত্রের প্রমাণপত্র। এ ছাড়া দখল হস্তান্তরপত্র, মূল ইজারার দলিল ও বায়া দলিলের প্রমাণপত্র দিতে হবে। ঋণ আবেদনপত্রের সঙ্গে আরও জমা দিতে হবে নামজারি খতিয়ানের জাবেদা নকল, খাজনা রসিদ ও আমমোক্তারনামা দলিল।

জমিতে ডেভেলপারকে দিয়ে বাড়ি তৈরি করলে জমির মালিক এবং ডেভেলপারের সঙ্গে নিবন্ধন করা ফ্ল্যাট বণ্টনের চুক্তিপত্র, অনুমোদিত নকশা, ফ্ল্যাট নির্মাণস্থলের মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদন, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত ছকে ইমারতের কাঠামো নকশা ও ভারবহন সনদ জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া ডেভেলপার কোম্পানির সংঘ স্মারক, সংঘবিধি ও রিহ্যাবের নিবন্ধন সনদ, নকশা অনুযায়ী কাজ করার ব্যাপারে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অঙ্গীকারনামা, অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নেই—মর্মে ডেভেলপারের দেওয়া স্ট্যাম্প পেপারে ঘোষণাপত্রও থাকতে হবে।

ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা
সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৬ বছর এবং চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৭৫ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ঋণ ২০ লাখ টাকা।

এই ঋণের বিপরীতে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে সুদ নেওয়া হবে ৫ শতাংশ। এর ওপরে যে সুদ প্রযোজ্য, তা সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হবে। ঋণের বিপরীতে সুদের ওপর সুদ, অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদ নেওয়া হবে না। ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ২০ বছর। শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মচারীরা এই ঋণ পাবেন, যাঁরা স্থায়ী পদে চাকরি করেন। তবে সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কেউ এই ঋণ পাবেন না।

স্টিলের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে
সরকারের বড় অবকাঠামো নিমার্ণ এবং আবাসন খাতে প্রবৃদ্ধির কারণে দেশে স্টিলের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ শিল্পের উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। স্টিলের ব্যবহারে এসেছে ভিন্নতা। প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধার কারখানা। পরিসংখ্যান বলছে, গত আট বছরে স্টিলের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বতর্মানে দেশে মাথাপিছু স্টিলের ব্যবহার হচ্ছে ৩৭ কেজি। এ শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১০ সালেও এই পরিমাণ ছিল ২৪ কেজি। দেশের বাজারের সব থেকে বড় অংশীদার বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম)। তাছাড়া আরও বড় যেসব স্টিল কোম্পানি রয়েছে এর মধ্যে আনোয়ারা স্পাত, একেএই, জিপিএইচ, কেএসআরএম এবং বসুন্ধরা স্টিল গত কয়েক বছরে তাদের উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে।

দেশের অন্যতম বড় শিল্পগ্রæপ পিএচপি গ্রæপ তাদের ফেনিতে নতুন প্ল্যান্ট তৈরির জন্য ১৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আগামী পঁাচ থেকে সাত বছরের মধ্যে এই গ্রæপ মিরেরসরাইয়ে বিশেষায়িত অথৈর্নতিক অঞ্চলে ৫০০ একর জমিতে সমন্বিত স্টিল উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠায় ৩১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে স্টিলশিল্পের অগ্রগতি শুরু হয়। ১৯৭২ সালে স্থানীয় মিল মালিকরা বাষির্ক ৪৭ হাজার টন স্টিল উৎপাদন করতেন। সেটা বেড়ে ২০১৭ সালে উৎপাদিত হয়েছে ৫৫ লাখ টন। আর এ বছর শেষে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন ৭০ লাখ টন স্টিল উৎপাদন হবে। স্টিলের বাষির্ক ৩০ হাজার কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশের কিছু প্রতিশ্রæতিশীল উদ্যাক্তা ও ভোক্তাশ্রেণির কারণে এ শিল্প প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় সেটা খুব বেশি না। ভারতে বাষির্ক স্টিলের মাথা পিছু ব্যবহার ৬৫ কেজি। আর দক্ষিণ এশিয়ায় গড় ব্যবহার ২২৫ কেজি। এ শিল্প সংশ্লিষ্টরা এখনো আশাবাদী আগমী বছরগুলোতে আরও ভালো প্রবৃদ্ধি হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসআরএম স্টিলের নিবার্হী পরিচালক তপন সেনগুপ্তা বলেন, ‘দেশের বড় বড় অবকাঠামো নিমার্ণ এবং আবাসন খাতে ইতিবাচক পরিবতের্নর জন্যই স্টিলের চাহিদা বেড়েছে।’ আনোয়ার গ্রæপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘ইস্পাত শিল্পের বতর্মান উন্নতির পেছনে সরকারি চাহিদা বাড়ায় মূল কারণ। সব বড় প্রকল্প চলমান থাকায় মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ আসছে সরকারি খাত থেকে। এছাড়া বাংলাদেশের বাজারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছে।’ জিপিএইচ স্পাতের পরিচালক আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে ধারবাহিকভাবে প্রায় বাষির্ক ১৫ শতাংশ হারে চাহিদা বাড়ছে। আমরা আশা করছি আগামী বছর এ খাতের ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।’ বিএসআরএম বতর্মানে বাজারের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাষির্ক ১৫ লাখ টন উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে তারা প্রায় ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে। বতর্মানে দেশে ছোট, মাঝারি এবং বড় স্টিল কারখানা রয়েছে। যাদের মোট বাষির্ক উৎপাদনক্ষমতা ৮০ লাখ টন। এর মধ্যে শীষর্ ১০ কোম্পানি ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করে। স্থানীয় মিল মালিকরা সাধারণত দুই ধরনের স্পাত উৎপাদন করে। একটা হলো ফ্ল্যাট স্টিল এবং লং স্টিল। এ শিল্পের কঁাচামাল সরবরাহ করছে চট্টগ্রামভিত্তিক জাহাজ ভাঙা শিল্প। এ ছাড়া বাষির্ক ১৫ লাখ টন বিলেট আমদানি করা হয়।
The Daily Jai Jai Din
17 September 2018

উত্তরায় সাড়ে ৬ হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তরে প্রস্তুত রাজউক
রাজধানীর উত্তর প্রান্তে গড়ে উঠেছে নতুন এক আবাসিক নগরী। প্রায় আড়াইশ’ ১৬ তলা ভবনের এই নগরীতে রয়েছে হাসপাতাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। বিস্তীর্ণ সবুজের মাঝে দু’শো একরের বেশি জমিতে পরিকল্পিতভাবে এই ভবনগুলো তৈরি করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগ। আবেদনকারীদের মধ্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ শেষ, কেউ বসবাসও শুরু করেছেন। এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা।বিশ্বের ১১তম জনবহুল মহানগরী ঢাকা। রাজধানী কেন্দ্রিক কর্মস্থলের কারণেই মূলত ঢাকায় বসবাসকারীর সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। সীমাবদ্ধ পরিসরে আবাসনের বিপুল চাহিদা মেটাতে নগরীর চারদিকে পরিকল্পিত স্থায়ী আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তর প্রান্তে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে সারি সারি বহুলতল ভবন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১০ সালে রাজধানীর উত্তরা এলাকার ২১৪ একর জমিতে ২৪০টি ১৬ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় বর্তমান সরকার। তিন ধাপে ২০ হাজার ১৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রথম ধাপে ৭৯টি ভবনে তৈরি হয়েছে ৬ হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট।
লটারি করে ইতিমধ্যে আবেদনকারীদের মধ্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বসবাস শুরু করেছে কয়েকটি পরিবার।
ভূ-গর্ভস্থ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত, পানি ও কেন্দ্রিয় প্লান্ট থেকে এলপিজি গ্যাস সরবরাহ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে এই প্রকল্পে। রয়েছে স্কুল, কলেজ, শপিংমল, মসজিদ, জিমনেসিয়াম, ব্যাংকসহ সব নাগরিক সুবিধা। খেলার মাঠ, পার্ক ও রাস্তার জন্য উন্মুক্ত আছে ৯৫ একরের এই প্রকল্পের ৫৫ ভাগ জমি। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভবনগুলোর অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।
নিন্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছে রাজউক।
প্রতিটি ভবনে ২০ জন ধারণ ক্ষমতার দু’টি লিফট, ২৫০ কেভিএ জেনারেটর ও ৮৫০ কেভিএ সাব-ষ্টেশন, মূল সিড়ি ছাড়াও রয়েছে ২টি অগ্নিনির্বাপন সিঁড়ি এবং মাল্টিপারপাস হল।
Boishakhi Tv
11 September 2018

গড়ে উঠছে নতুন জনপদ
The Daily Prothom Alo
10 September 2018

একাধিক ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দৃশ্যমান মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে দ্রুত গড়ে উঠছে নতুন বসতি। বাড়ছে জমির দাম।

এক দশক আগেও এলাকাটি ছিল জলাভূমি। তাতে মিলত কই, শিং, ট্যাংরা, পুঁটি থেকে নানা জাতের দেশি মাছ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের মনেই ছিপ দিয়ে মাছ ধরার স্মৃতি এখনো জীবন্ত। কিন্তু ২০১৮ সালে এসে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। পুরো এলাকা ছেয়ে গেছে সুরম্য অট্টালিকায়। তাতে সংসার পাতা শুরু করেছে অনেক মানুষ। মিরপুরের ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর সেকশনের একটা বড় অংশজুড়ে এলাকাটির অবস্থান। স্থানীয়ভাবে জায়গাটি বাইশটেকী নামেই পরিচিত।

গত শনি ও রোববার বাইশটেকী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সাত-আটটি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠান এই বিশাল এলাকাজুড়ে কাজ করছে দিন-রাত। ব্যক্তি উদ্যোগেও গড়ে উঠছে অসংখ্য বাসাবাড়ি। মিরপুর-১৪ পুলিশ কমিউনিটি হলের পেছনের সড়কের পাশ ঘেঁষে রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, বিজয় রাকিন সিটি গড়ে তুলছে। ৫০ বিঘা জায়গাজুড়ে ১ হাজার ৯৫০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কথা হয় আবাসন প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি মার্কেটিং ম্যানেজার নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ পরিবর্তনটা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। চার বছর আগেও অঞ্চলটি মিরপুরের নিম্নাঞ্চল বলে পরিচিত ছিল। জলা-জঙ্গলে আকীর্ণ পুরো অঞ্চলে পাওয়া যেত মাছ। বছরে একবার ধানের আবাদ হতো। কিন্তু এ কথা এখন বললে কারও বিশ্বাসই হবে না। ক্রেতাদের দারুণ সাড়া পাচ্ছি। আমাদের প্রায় ৯০ শতাংশ ফ্ল্যাট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।’

বিজয় রাকিন সিটির পাশ ঘেঁষে ২৮ বিঘা জমিতে আরেকটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলছে নাভানা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। ১ হাজার ৬০০ অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের এ প্রকল্পের ৩০০ অ্যাপার্টমেন্ট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাভানা রিয়েল এস্টেটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া রূপসী বাংলা আবাসন, জয়নগর আবাসন (সরকারি) সহ একাধিক ছোট-বড় আবসন প্রকল্প গড়ে উঠছে এলাকাজুড়ে।

যেকোনো এলাকায় বসতি গড়ে ওঠার নেপথ্যের কারণ ভালো যোগাযোগব্যবস্থা। এ কারণেই পুরো এলাকাটিতে দ্রুত বসতবাড়ি গড়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন একাধিকজন। মিরপুর-১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর থেকে খুব সহজেই মিরপুর-১০ হয়ে নগরের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া যায়। এ ছাড়া সম্প্রতি মেট্রোরেল প্রকল্প দৃশ্যমান হওয়ায় উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের কাছে বসতি স্থাপনের জন্য এলাকাটি বেশ পছন্দের হয়ে উঠেছে।

কথা হয় ফ্ল্যাট কিনতে আসা একটি বেসরকারি কোম্পানির নির্বাহী নির্মল কুমার রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেল আসছে। তাই আশপাশে ফ্ল্যাট দেখছি। দ্রুত কিনতে চাই। দিন যত যাচ্ছে দাম বাড়ছে। এখানে পরিবেশটিও ভালো।’

এ প্রসঙ্গে নাভানা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এ অঞ্চলটির আশপাশে সাত-আটটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবস্থান হওয়ায় উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা এলাকাটিতে দ্রুত বসতি স্থাপন করছে। এখন নাগরিকদের নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করা গেলে এটি মধ্যবিত্তের অভিজাত এলাকায় পরিণত হবে।

এলাকাটি থেকে হাঁটাপথ দূরত্বে স্কলাসটিকা, এস ও এস হারম্যান মেইনার কলেজের মতো অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান। এ ছাড়া মনিপুর স্কুল ও কলেজ, আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজেও খুব সহজেই যাওয়া যায়।

এদিকে নতুন বসতি গড়ে উঠতে থাকায় পুরো অঞ্চলে বাড়ছে জমির দাম, হয়ে উঠছে আকাশছোঁয়া। স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক দশক আগেও এসব নিচু জমির দাম ছিল প্রতি কাঠা চার-পাঁচ লাখ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকায়। আর উঁচু জমি অবস্থানভেদে প্রতি কাঠা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার জামাল মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, এটা পুরোটাই ছিল নিম্নাঞ্চল। বস্তি এলাকা বলে পরিচিত ছিল। আশপাশের রাস্তাঘাট ও ফুটপাতের ব্যাপক উন্নয়ন ও মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে দৃশ্যপট বদলে গেছে, বেড়েছে জমির দাম।

ঢাকার ৪০% কর্মকর্তাকে আবাসন সুবিধা দিতে চায় সরকার
The Daily Prothom Alo
05 September 2018

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ঢাকায় থাকা ৪০ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তাকে সরকারি আবাসন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে ঢাকায় বসবাসকারী ৮ ভাগ কর্মকর্তা সরকারি আবাসন সুবিধা পান।

আজ বুধবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ব্রিফিংয়ে মোশাররফ হোসেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আগে বিভিন্ন সরকারি আবাসিক ভবন সাধারণত পাঁচ-ছয়তলা করা হতো। এখন এসব ভবন ২০ তলা করা হবে।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর আজিমপুর ও মতিঝিল এলাকার জন্য মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে এই দুই এলাকায় প্রায় ২০ হাজার কর্মকর্তার আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে আজিমপুর কোয়ার্টারে প্রায় ১ হাজার ৮০০ এবং মতিঝিল এলাকায় ২ হাজার ৮০০ পরিবার বসবাস করে। নতুন পরিকল্পনায় এসব এলাকায় উন্মুক্ত স্থানের পরিমাণ বাড়বে এবং জলাশয়, খেলার মাঠসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আখতার হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দুজন নবীন কর্মকর্তা তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
৩৬তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে গণপূর্ত ক্যাডারে ২৭ কর্মকর্তার মধ্যে ১৯ জন সিভিল এবং ৮ জন ইলেকট্রিক্যাল শাখায় যোগ দিয়েছেন।

সরকারি চাকুরেদের গৃহনির্মাণ ঋণ কার্যক্রম ১ অক্টোবর থেকে
The Daily Naya Diganta
৩০ আগস্ট ২০১৮

পাঁচ শতাংশ সুদে সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহনির্মাণ ঋণ কার্র্যক্রম আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে। এই সময় থেকেই সরকারি কর্মচারীরা ব্যাংক থেকে গৃহঋণ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ সম্পর্কিত ওয়ার্কিং কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। অর্থ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বলা হয় আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই পাঁচটি সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে একটি করে সমঝোতা স্মারক সই করবে।
সরকারি এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছেÑ সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন। এ ঋণে সরল সুদহার হবে ১০ শতাংশ। এই সুদের ৫ শতাংশ ভর্তুকি হিসাবে দেবে সরকার, বাকি ৫ শতাংশ বহন করবে ঋণগ্রহীতা। কোনো সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ঋণ নেয়ার জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান পছন্দ করার আগে অর্থ বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। আবেদনকারী কর্মচারীরা জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির স্থায়ীকরণপত্র, বেতনের রসিদ, সম্ভাব্য পেনশন থেকে আয়, ব্যাংকের হিসাব বিবরণ এবং অন্য ব্যাংক থেকে যদি কোনো ঋণ নেয়া থাকে তার বিবরণ আবেদনের সাথে দিতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সেল এ বিষয়টি মনিটর করবে। অনলাইনে মনিটরিং সেলে ঋণের আবেদন করতে হবে।
এর আগে গৃহনির্মাণ ঋণের জন্য শতকরা ৫ শতাংশ সুদ হার নির্ধারণ করে গত ৩১ জুলাই এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুসারে জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনি¤œ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন একজন সরকারি চাকরিজীবী। ছয় মাস (ফ্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে) থেকে এক বছরের (বাড়ি নির্মাণ) গ্রেস পিরিয়ডসহ (এই সময়ের মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা লাগবে না) ২০ বছর মেয়াদে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
তবে কোনো সরকারি চাকুরের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় বা দুর্নীতি মামলা থাকলে সেই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ঋণ পাবেন না। প্রসঙ্গত সাধারণ জনগণ গৃহনির্মাণের জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যদি ঋণ নেন তবে তাকে ১০ শতাংশের বেশি সুদ গুনতে হয়।
বর্তমানে ১০ শতাংশ সুদহারে একজন সরকারি কর্মচারী সর্বোচ্চ ঋণ পান এক লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু নতুন নীতিমালা অনুযায়ী উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম থেকে প্রথম গ্রেডভুক্তরা ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ কিংবা ফ্যাট ক্রয় করতে পারবেন। সর্বনি¤œ ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন এবং বিভাগীয় সদরে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে এ ঋণ নেয়া যাবে। সর্বোচ্চ ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত এ ঋণ নেয়া যাবে।
জাতীয় বেতন কাঠামোর পঞ্চম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাÑ যাদের বেতন স্কেল ৪৩ হাজার টাকা বা তার বেশি তারা প্রত্যেকে ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে গৃহনির্মাণে ঋণ পাবেন ৭৫ লাখ টাকা। জেলা সদরে ৬০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা।
বেতন কাঠামোর নবম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বা যাদের মূল বেতন ২২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা, তারা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন এবং বিভাগীয় সদর এলাকায় ৬৫ লাখ, জেলা সদরে ৫৫ লাখ এবং অন্যান্য এলাকায় ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।
দশম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত যাদের মূল বেতন ১১ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা তারা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৫৫ লাখ টাকা, জেলা সদরে ৪০ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।
১৪ থেকে ১৭তম গ্রেড বা ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার ২০০ টাকা বেতন স্কেলে ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৪০ লাখ, জেলা সদরে ৩০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ২৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। ১৮ থেকে ২০তম গ্রেড বা আট হাজার ২৫০ থেকে আট হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন পান এমন কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে পাবেন ৩০ লাখ টাকা। জেলা সদরে এটি হবে ২৫ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় পাবেন ২০ লাখ টাকা।
সরকারের আওতাধীন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর, পরিদফতর ও কার্যালয়গুলোতে স্থায়ী পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত বেসামরিক কর্মচারীরাও এ সুবিধা পাবেন। সামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি, পৃথক বা বিশেষ আইনে সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মচারীরা এ ঋণ সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন না। অবশ্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাংক থেকে এ ধরনের গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধা পেয়ে থাকেন।
এ হিসাবে সরকারের প্রায় ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধা পাবেন। তারা এককভাবে এ ঋণ নিতে পারবেন। আবাসিক বাড়ি করার জন্য গ্রুপভিত্তিক ঋণও নেয়া যাবে। ফ্যাট কেনার জন্যও এ ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে ফ্যাট হতে হবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত অর্থাৎ রেডি ফ্যাট। অবশ্য সরকারি সংস্থার নির্মাণ করা ফ্যাট কেনার েেত্র সম্পূর্ণ রেডি ফ্যাটের শর্ত শিথিল করা যাবে।
তবে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু এবং দুর্নীতি মামলার চার্জশিট দাখিল হলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যান্ত এ ঋণের যোগ্য বিবেচিত হবেন না। পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কোনো কর্মচারীও এ ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী ঋণ নেয়ার পর স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়লে বা বাধ্যতামূলক অবসর, বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত হলে আদেশ জারির তারিখ থেকে ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য সুদ বাবদ সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। এ েেত্র ঋণের অপরিশোধিত অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পেনশন সুবিধা বা আনুতোষিক সুবিধা থেকে আদায় করা হবে। ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে তার পারিবারিক পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা থেকে যতটুকু সম্ভব ঋণ পরিশোধ করা হবে। এর পরও ঋণ পাওনা থাকলে উত্তরাধিকারদের কাছ থেকে তা আদায় করা হবে।
ঋণের সর্বোচ্চ সিলিং নির্ধারণ সম্পর্কে নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেতন স্কেল অনুযায়ী সর্বোচ্চ যে সিলিং সরকার নির্ধারণ করে দেবে, সেটিও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের যথাযথ পদ্ধতিতে যে পরিমাণ ঋণ সুবিধা নির্ধারণ করা হবে তার মধ্যে যেটি কম সে পরিমাণ ঋণ পাবেন। ফ্যাট কেনা বা নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের েেত্র ঋণ দেয়ার জন্য ডেট ইক্যুইটি রেশিও (অনুপাত) হবে ৯০:১০। অর্থাৎ ফ্যাট কেনা বা নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য কেউ নিজস্ব উদ্যোগে ১০ টাকা খরচ করলে তিনি ৯০ টাকা ঋণ পাবেন।
ঋণের সুদ সম্পর্কে নীতিমালার ৭(ঘ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। এটি হবে সরল সুদ এবং সুদের ওপর কোনো সুদ আদায় করা হবে না। ঋণগ্রহীতা কর্মচারী ব্যাংক রেটের সমহারে (বর্তমানে যা ৫ শতাংশ) সুদ পরিশোধ করবেন। সুদের অবশিষ্ট অর্থ সরকার ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে।’
নীতিমালার ৪ ধারায় ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারী দেশের যেকোনো এলাকায় গৃহনির্মাণ বা ফ্যাট কেনার জন্য ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। গৃহনির্মাণ বা ফ্যাট কেনার েেত্র ভবনের নকশা উপযুক্ত কর্তৃপরে অনুমোদিত হতে হবে। যে জমি বা ফ্যাট কেনা হবে, তা সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হতে হবে। ঋণদানকারী ব্যাংক বা বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ব্যাংকে আবেদনকারীর একটি হিসাব থাকবে। ওই হিসাবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বেতনভাতা, পেনশন ও গৃহনির্মাণ বা ফ্যাট ক্রয় ঋণ বিতরণ ও আদায়ের পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে। রেডি ফ্যাট কেনার েেত্র ঋণের পুরো অর্থ এক কিস্তিতে ছাড় করবে ব্যাংক। গৃহনির্মাণের েেত্র ঋণের টাকা চার কিস্তিতে ছাড় করা যাবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার আগে যে সম্পত্তিতে ঋণ দেয়া হবে, তা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বরাবর রেজিস্টার্ড দলিলমূলে বন্ধক রাখতে হবে। বাস্তুভিটায় বাড়ি করার েেত্র ঋণগ্রহীতার মালিকানাধীন অন্য কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখা যাবে। এ ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ২০ বছর।
গৃহনির্মাণের প্রথম কিস্তি ঋণের অর্থ পাওয়ার এক বছর পর, ফ্যাট কেনার েেত্র ঋণের অর্থ পাওয়ার ছয় মাস পর থেকে ঋণগ্রহীতা মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ শুরু করবেন। কোনো কারণে মাসিক কিস্তি পরিশোধে দেরি হলে বিলম্বের জন্য আরোপযোগ্য সুদ শেষ কিস্তির সঙ্গে যুক্ত হবে। যে ব্যাংক ঋণ দেবে, সেই ব্যাংকে তার মাসিক বেতনের হিসাব খুলতে হবে। তার বেতনভাতা ওই হিসাবে জমা হবে।
ব্যাংক সেখান থেকে প্রথমে মাসিক ভিত্তিতে কিস্তির টাকা কেটে নেবে। পরে ঋণগ্রহীতা বেতনভাতার বাকি অর্থ হিসাব থেকে তুলতে পারবেন। ঋণগ্রহীতা অন্যত্র বদলি হলে তার হিসাবও সেখানে একই ব্যাংকের কোনো শাখায় স্থানান্তর করে নিতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাঙ্গাভাব ফিরছে আবাসন খাতে
মানবজমিন
৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

টানা কয়েক বছর সংকটে থাকা দেশের আবাসন খাতে চাঙ্গাভাব ফিরছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায়, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমে আসা, ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের স্বল্প সুদে গৃহঋণ পাওয়া এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে দেয়া ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনছে। এ ছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী নগর দরিদ্রদের জন্য ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্ল্যাট প্রদানের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এসব কারণে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ও বিএইচবিএফসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ২০১০ সালে নতুন আবাসিকে গ্যাস সংযোগ না দেয়ার ঘোষণার পর পরতে শুরু করে আবাসন খাতের বাজার। এরপর শেয়ারবাজারে ধস, ক্রেতাপর্যায়ে ঋণের অভাবসহ নানা কারণে আবাসন খাতের বিক্রি আরো কমে যায়। তবে ব্যাংকঋণের সুদহার হ্রাস ও ফ্ল্যাট কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ চালুর সুবাদে আবাসন খাতে আবার সুদিন ফিরছে।

অ্যাপার্টমেন্টের বাজার ক্রমান্বয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালের পর থেকে আবাসন ইউনিট বিক্রি ২০ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ২০১৭ সালে পরিস্থিতি অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে এবং আগের কয়েক বছরের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। চলতি বছর এ খাতের পরিস্থিতি আরো ভালো হবে বলে তারা আশা করছেন। তারা জানান, অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রিতে বেশ ছাড় দিয়েছেন। কয়েক বছর ধরে জমির মূল্য একই রকম আছে। এদিকে অ্যাপার্টমেন্টের দামও বাড়েনি। এ কারণেই আবাসন খাতে বিক্রি ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে।

রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের তুলনায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টের দাম প্রতিষ্ঠানভেদে ৩০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে বারিধারা, বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি, লালমাটিয়ার মতো এলাকায়। রিহ্যাব জানিয়েছে, ২০০৮ সালে আবাসন খাতকে ঘিরে ২০ লাখের মতো কর্মসংস্থান ছিল। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ২৮ লাখের মতো। ২০২০ সাল নাগাদ এ খাতে প্রায় ৩৩ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। জিডিপিতে আবাসন খাতের অবদান প্রায় ১৫ ভাগ। রিহ্যাবের হিসাব মতে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ২০৯টি প্রতিষ্ঠানের ১১ হাজার ১৬৫টি ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। ২০১৪ সালে ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭৪৯টি।

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন জানান, রাজধানীতে ফ্ল্যাটের দাম এখনো যৌক্তিক। আবাসনে বিনিয়োগের এখন উপযুক্ত সময়। আমাদের ব্যবসাও এখন তুলনামূলক বেশ ভালো চলছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আবাসন খাত আবারো ঘুরে দাঁড়াবে।

রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি ও শেলটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. তৌফিক এম সেরাজ বলেন, ২০১৩-১৫ সাল পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি ছিল খুবই কম। তবে আশার কথা হচ্ছে, ২০১৭ সালে অনেক পরিবর্তন এসেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় বিক্রি শতকরা প্রায় ২০ ভাগ বেড়েছে। আশা করা যায়, আগামীতে পরিস্থিতি আরো ভালো হবে।

বিএইচবিএফসি সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মচারীরা ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে গৃহঋণ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনার ঋণের সুদহারে এত দিন সামান্য যে পার্থক্য ছিল, তা তুলে দিচ্ছে সংস্থাটি। বিএইচবিএফসির এক কর্মকর্তা বলেন, ৯ই আগস্টের মধ্যে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটি মানতেই সুদের হার কমানো হচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে। স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন স্বপ্ন পূরণে বিএইচবিএফসির নতুন গৃহঋণের সুদের হার কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, ঋণ ছাড়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। দেশের ১২ লাখ কর্মচারীর হাতে এ ঋণের অর্থ তুলে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে জোর তাগিদ রয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই সরকার এ কার্যক্রমের বাস্তবায়ন দেখতে চায়।

এদিকে গত ৩০শে জুলাই অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা’ ২০১৮ প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে অর্থ বিভাগ, যা ১লা জুলাই থেকে কার্যকরের কথা বলা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, গৃহনির্মাণে ৫ শতাংশ সরল সুদে ঋণ নেয়ার যোগ্যতা হিসেবে কর্মচারীদের বয়সসীমা করা হয় চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫৬ বছর। সে হিসেবে প্রায় ১২ লাখ কর্মচারী এ ঋণ সুবিধা পাবেন, যা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন তফসিলি ব্যাংক ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন সরকারের এ ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য গৃহনির্মাণ ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নীতিমালার আওতায় জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে।
সূত্র মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের সহজ শর্তে গৃহঋণ দিতে চলতি মাসে দেশের চারটি সরকারি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ দেয়া হবে সেগুলো হচ্ছে- সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)।

বাংলাদেশে ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মচারীদের গৃহঋণ প্রদান নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে এ উদ্যোগের আওতায় অন্যদেরও আনার চেষ্টা রাখতে হবে। আবার ব্যাংকগুলোকেও এ ঋণ প্রদানে স্বচ্ছতার বিষয়টি গুরুত্বে রাখতে হবে।

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নূরন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি বলেন, স্বল্প সুদে ঋণের এ পরিপত্রের কারণে এরই মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের আগ্রহ জন্মেছে। যা আবাসন শিল্পের জন্য খুবই সুখের খবর। এর মাধ্যমে আবাসন শিল্পে ১৩ লাখ নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, আবাসন খাত অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে কিছুটা ভালো অবস্থায় আছে। আগের তুলনায় এ খাতে বর্তমানে ক্রেতাদের আস্থার সংকট কেটেছে। ১৯৯২ সালে সাতটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে যাত্রা শুরু করে রিহ্যাব। বর্তমানে এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১১৫১টি।

আন্তর্জাতিক সুপার ব্র্যান্ডস অ্যাওয়ার্ড পেল শাহ্ সিমেন্ট
প্রথম আলো
০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সিমেন্ট ক্যাটাগরিতে আন্তর্জাতিক সুপার ব্র্যান্ডস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে শাহ্ সিমেন্ট। এটি তিনবার বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডও জিতেছে।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সিমেন্ট শিল্পে নেতৃত্ব, পণ্যের গুণগত মানের ধারাবাহিকতা এবং উন্নত সেবা দিচ্ছে শাহ্‌ সিমেন্ট।

শাহ্ সিমেন্টের পক্ষে আবুল খায়ের গ্রুপের ডিরেক্টর, ব্র্যান্ড মার্কেটিং নওশাদ চৌধুরী এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

ফ্ল্যাট ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণ ঋণের সুদের হার কমছে

প্রথম আলো
১৭ আগস্ট ২০১৮,

বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনায় দেওয়া ঋণের সুদহার আরেক দফা কমাচ্ছে বিএইচবিএফসি
সিদ্ধান্তটি অনুমোদনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আবেদন করেছে বিএইচবিএফসি
সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়
বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনায় দেওয়া ঋণের সুদহার আরেক দফা কমাচ্ছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) । বাড়ি নির্মাণ ও ফ্ল্যাট কেনার ঋণের সুদহারে এত দিন সামান্য যে পার্থক্য ছিল, তা তুলে দিচ্ছে সংস্থাটি। ফলে এখন থেকে দুই ক্ষেত্রেই সুদের হার সমান থাকবে।

বিএইচবিএফসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রমতে, বিএইচবিএফসির পরিচালনা পর্ষদে সম্প্রতি সুদের হার কমানোর এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অনুমোদনের জন্য গত বৃহস্পতিবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আবেদন করেছে বিএইচবিএফসি। কারণ, নিয়মানুযায়ী এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়।ঊঢ়ৎড়ঃযড়সধষড়

বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘৯ আগস্টের মধ্যে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটি মানতেই সুদের হার কমানো হচ্ছে । আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’ স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন স্বপ্ন পূরণে বিএইচবিএফসির নতুন গৃহঋণের সুদের হার কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে দেবাশীষ চক্রবর্তী আশাবাদী ।

বিএইচবিএফসি সূত্রমতে, সংস্থাটি ১১ বছর পর ২০১৭ সালের ১ জুলাই সুদের হার কমায়। ২০০৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন শহরের অতি উন্নত এলাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের অন্যান্য উন্নত এলাকায় বাড়ি নির্মাণের জন্য সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ। ২০১৭ সালের ১ জুলাই তা কমিয়ে করা হয় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ৯ শতাংশের নতুন সুদহার কার্যকর হবে গত ১ জুলাই থেকে।

টঙ্গী, সাভারসহ অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে বাড়ি নির্মাণে দেওয়া ঋণের সুদহার ছিল ১০ শতাংশ, যা ১১ বছর পর ২০১৭ সালের ১ জুলাই কমিয়ে করা হয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এই সুদের হারটি অবশ্য বদলাচ্ছে না। ফ্ল্যাট কেনার ঋণের ক্ষেত্রেও ১১ বছর ধরে যে সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ, তা কমিয়ে ইতিপূর্বে করা হয় ১০ শতাংশ। এবার সেটিও হচ্ছে ৯ শতাংশ।

জানা গেছে, বিএইচবিএফসির পর্ষদ বৈঠকে ঋণের সুদ ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার যৌক্তিকতা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত এসেছে, ‘সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৯ শতাংশ এবং ফ্ল্যাট ঋণের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ শতাংশ করার সুযোগ রয়েছে ।’

এতে সংস্থার আয় কমে যাবে বলে প্রশ্ন ওঠে বৈঠকে । তবে তারও একটি সমাধান বের করা হয় বৈঠকে। জানা গেছে, বিএইচবিএফসি এখন ঋণ আদায় বাড়াতে আরও বেশি নজর দেবে এবং আদায় হওয়া টাকা নতুনভাবে বিনিয়োগ করা হবে।

এরই মধ্যে যে গ্রাহকেরা ১০ এবং ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঋণের সুদের হার কী হবে—জানতে চাইলে বিএইচবিএফসির কর্মকর্তারা জানান, এ বছরের ১ জুলাই বা তারপর যেসব ঋণ মঞ্জুর হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেই কেবল নতুন সুদের হার কার্যকর হবে । ৩০ জুনের আগে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে আগের সুদহারই বহাল থাকবে। ৩০ জুন পর্যন্ত সব কিস্তি দেওয়া থাকলে (আপটুডেট) ১ জুলাই থেকে তাঁদের ঋণের সুদ নতুন হারে কার্যকর হবে। কোনো গ্রাহক আপটুডেট না থাকলে, যে তারিখে আপটুডেট হবেন, সেই তারিখ থেকে তাঁর ঋণে নতুন সুদহার কার্যকর হবে। বিএইচবিএফসির বর্তমান গ্রাহক ৩১ হাজার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংস্থাটি ৪০১ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করে এবং একই সময়ে ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৬২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে।

এদিকে অনুমোদন পেলেই জারি হবে প্রজ্ঞাপন, কিন্তু অনুমোদনটি কবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান ১১ আগস্ট প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুব শিগগির অনুমোদন হয়ে যাবে ।’ তবে গতকাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি ।

সরকারি কর্মচারীদের গৃহঋণ, নতুন সম্ভবনা আবাসন খাতে
The Abasonbarta.com 13 August 2018


আবাসন সমস্যা সমাধানে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে সরকারের জারি করা সরকারি কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণ সংক্রান্ত পরিপত্র। বিশেষ করে ১২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বল্প সুদে গৃহ নির্মাণে ঋণ দেওয়ায় আবাসন খাতে নতুন মার্কেট সৃষ্টি হবে। এতে আবাসন খাতে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়বে বলে আশা করছে রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সোমবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন এ সম্ভবনার কথা তুলে ধরেন।

রাজধানীর হোটেল সুন্দরবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাব এর ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) লিয়াকত আলী ভূইয়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ মোঃ আহকাম উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী, পরিচালক মোঃ আল আমিন, মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, প্রকৌশলী মোঃ মহিউদ্দিন সিকদার এবং মোঃ জহির আহমেদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকুরিজীবিরা ৫ শতাংশ সুদে গৃহঋণ পাবেন। পরিপত্রের আওতায় জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গৃহ ঋণ নেওয়া যাবে। এ ঋণের মোট সুদহার ১০ শতাংশ। যার মধ্যে ৫ শতাংশ দিবে সরকার। আর বাকী ৫ শতাংশ ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করবে। ২০ বছর মেয়াদে এ ঋণ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। পরিপত্র জারীর আগে একজন সরকারি কর্মচারী সর্বোচ্চ ঋণ পেতেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী সরকারের প্রায় ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী গৃহনির্মাণে এ ঋণ সুবিধা পাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আবাসন শিল্পের নানা অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। পরিপত্রের কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কম সুদে ঋণ পাওয়ার আশায় ফ্ল্যাট ক্রয়ের আগ্রহ বেড়েছে বলেও জানানো হয়। সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর হলে আবাসন খাতে স্থবিরতা কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করে রিহ্যাব। খুব দ্রুত এই পরিপত্র কার্যকর হবে এমন প্রত্যাশাও করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোভাবের জন্যই সরকারি কর্মচারীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন। “সবার জন্য বাসস্থান” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন এই পরিপত্র। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সাহসী এবং গতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিমত তুলে ধরা হয়।

সেকেন্ডারি মার্কেট বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, সেকেন্ডারি মার্কেট বিষয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে সরকারের সম্মতি পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, দুদক থেকে নতুন ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ কিংবা হয়রানি নাই। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে কিছু প্রশ্ন রিহ্যাবের কাছে এসেছিল। রিহ্যাব একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করে এনবিআর সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছেন, এনবিআর অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে চায় না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

The Daily Prothom Alo, 14 August 2017

স্বল্প সুদে গৃহঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করায় সরকারকে সাধুবাদ রিহ্যাবের
The Daily Prothom Alo, 13 August 2018

সরকারি কর্মচারীদের স্বল্প সুদে গৃহঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে দেশের আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটি আশা করছে, এই ঋণের ফলে তাদের ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। আবাসন খাতও ঘুরে দাঁড়াবে।

সরকারি কর্মচারীদের গৃহঋণ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন সরকারি কর্মচারীদের যাচাই-বাছাই করে ফ্ল্যাট কেনার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় যাচাই করতে হবে, তা রিহ্যাবের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। নতুন ক্রেতাদের উচিত তা দেখে নেওয়া। পাশাপাশি যে কোম্পানির কাছ থেকে ফ্ল্যাট কেনা হবে, সেটি রিহ্যাবের সদস্য কি না, তা যাচাইয়ের পরামর্শ দেন তিনি।

রিহ্যাব জানায়, সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণের পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কর্মচারীরা এর আওতায় সর্বনিম্ন ৩০ ও সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এ ঋণের মোট সুদহার ১০ শতাংশ। তবে সরকার ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে। এতে কর্মচারীদের সুদ দিতে হবে ৫ শতাংশ হারে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ বছর।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে ১০ শতাংশ সুদে সরকারি কর্মচারীরা ২০ লাখ টাকা ঋণ পান। নতুন নীতিমালায় উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার কর্মচারীরা অর্থাৎ জাতীয় বেতন কাঠামোর ৫ম থেকে ১ম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। তাঁরা ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনতে বা বাড়ি নির্মাণ করতে পারবেন। সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা পাবেন। সরকারের আওতাধীন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও কার্যালয়গুলোতে স্থায়ী পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও ঋণ পাবেন বলে উল্লেখ করে রিহ্যাব।Eprothomalo

আলমগীর শামসুল আলামিন জানান, কর্মচারীরা এককভাবে এ ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি দলগতভাবেও ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে। একটি ফ্ল্যাটের দামের ১০ শতাংশ নিজে বিনিয়োগ করতে হবে, ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এক অঙ্কের সুদের হার কার্যকর করার আহ্বান জানান রিহ্যাব সভাপতি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনায় ক্রেতারা ফ্ল্যাট কেনার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে লিজিং কোম্পানিতে গৃহঋণের সুদের হার ১৩-১৪ শতাংশ। এটি কমিয়ে আনা দরকার।

অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, আবুল ফাতহা মো. আহকাম উল্লাহ ইমাম খান, মো. আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

প্লাস্টারের জন্য বিশেষায়িত সিমেন্ট আনছে লাফার্জহোলসিম
Abasonbarta.com 8 May 2018

প্লাস্টারের জন্য বাংলাদেশের বাজারে বিশেষায়িত সিমেন্ট আনছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড। বিশেষায়িত এই সিমেন্ট প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র কার্পোরেটরাই পাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সুরানা। মঙ্গলবার (০৮মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে রাজেশ সুরানা বলেন, প্লাস্টারক্রিটের মাধ্যমে প্লাস্টার অনেক বেশি মসৃণ হয়। যা এই কাজটাকে অনেক সহজ করবে। এই পণ্যের ব্যবহারে স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং ক্র্যাক কম হবে। ফলে মেরামতের প্রয়োজন পড়বে না। নতুন এই সিমেন্ট গ্রাহকদের সময় বাঁচাবে, খরচ কমাবে এবং দেশের নির্মাণ খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্লাস্টারক্রিট ছাড়াও বাজারে আমাদের কোম্পানিটি হোলসিম স্ট্রং স্ট্রাকচার, সুপারক্রিট, হোলসিম গ্রে ও হোলসিম রেড নামে চার ধরনের সিমেন্ট রয়েছে।নির্মাণ খাতে সেরা সল্যুশন আনতে কোম্পানিট প্রতিনিয়ত গবেষণা এবং পণ্য উন্নয়নের কাজ করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাজারে প্লাস্টারক্রিটের মতো সিমেন্ট আনতে যাচ্ছি আমরা।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ বছরে ৪.২ মিলিয়ন টন বিশ্বমানের সিমেন্ট উৎপাদন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোম্পানিটি বাংলাদেশে ৫০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং আরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। দেশের নির্মাণ খাতে এটাই সবচেয়ে বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ। কোম্পানিটির সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত প্ল্যান্টটি দেশের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ সিমেন্ট প্ল্যান্ট। ক্লিংকার উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতি বছর ৪০-৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করে। কোম্পানির প্ল্যান্টগুলো দেশের উত্তর-পশ্চিম, মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে গ্রাহকদেরও সুবিধা হয়েছে।

এই প্রকল্পগুলোর সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে প্রায় তিন হাজার কর্মী। এছাড়া বিশ হাজারের মতো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে কোম্পানিটির। এর শতকরা ৪১ ভাগ শেয়ারের মালিক বাংলাদেশের প্রায় ৩০ হাজার বিনিয়োগকারী এবং বাকি শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সুইজারল্যান্ড এবং ফ্রান্সের লাফার্জহোলসিম গ্রুপ এবং স্পেনের সিমেস্টোস মলিন্সের হাতে।

সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানিটির বাংলাদেশের মার্কেটিং অ্যান্ড কমার্শিয়াল ট্রান্সফরমেশন পরিচালক আরিফ ভূইয়া এবং হেড অব মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি কমিউনিকেশন সৈয়দ নাঈমুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন।

বড় হচ্ছে লিফটের বাজার
The Daily Prothom Alo, 11 August 2018

পুরোটাই আমদানিনির্ভর।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী হচ্ছে লিফটের বড় বাজার।
মাসে ২০০ লিফট বসছে ঢাকা শহরেই।
কবি আবুল হাসান লিখেছিলেন, ‘দালান উঠছে তাও রাজনীতি, দালান ভাঙছে তাও রাজনীতি। …সমস্যার ছদ্মবেশে আবার আগুন/ উর্বর হচ্ছে, রাজনীতি…।’ আমাদের আলোচ্য বিষয় অবশ্য দালান ওঠার রাজনীতি নয়, বরং অর্থনীতি।

অর্থনীতির মধ্যে আবার দালান ওঠার বাণিজ্য ও ব্যবসায়ের অংশ শুধু। তা-ও আবার পুরো দালান নয়। দালানের সামান্য একটি অংশ, যেখানে একটি যন্ত্র বসানো হয়, ইংরেজিতে যাকে বলে এলিভেটর। এ দেশের মানুষের কাছে এলিভেটরই পরিচিত ‘লিফট’ নামে। আর ওঠানামার জন্য সুউচ্চ অট্টালিকা বা দালানগুলোয় বাধ্যতামূলকভাবে থাকে এই লিফট।Eprothomalo

রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে যে বড় বড় অট্টালিকা উঠছে, তা দৃশ্যমান। আর এসব অট্টালিকায় যে লিফট বসছে, তা-ও চোখে পড়ছে সবার। অট্টালিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্বাভাবিক কারণেই বড় হচ্ছে লিফটের বাজার।

দেশে লিফট তৈরির কোনো কারখানা নেই, অর্থাৎ পণ্যটির বাজার পুরোটাই আমদানিনির্ভর। আমদানি হয় সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। কেউ কেউ শুধু মোটর ও গতিনিয়ন্ত্রক (স্পিড কন্ট্রোলার) নিয়ে এসে অন্য যন্ত্রাংশ সংযোজন করেও লিফট তৈরি করে থাকে।

লিফট আমদানিকারকদের কোনো অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি নেই। ফলে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য-উপাত্তও নেই। তবে লিফট আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাসে ২০০ লিফট বসছে ঢাকা শহরেই।

ঢাকাসহ সারা দেশে মাসে ২৫০টি লিফট বসলে এবং প্রতিটির দাম গড়ে ২০ লাখ টাকা করে হিসাব করলেও এ বাজারের আকার দাঁড়ায় বছরে ৬০০ কোটি টাকা। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহী হচ্ছে লিফটের বড় বাজার। প্যাসেঞ্জার, হাসপাতাল, ক্যাপসুল, কার্গো, অ্যাকসিলারেটর—এই পাঁচ ধরনের লিফট রয়েছে দেশে। ব্যবহৃত হচ্ছে বাসাবাড়ি, শপিং কমপ্লেক্স, হাসপাতাল ও শিল্পকারখানায়।

লিফট কোম্পানিগুলো সূত্রে জানা গেছে, মানভেদে এগুলোর দাম পড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ, ২০ থেকে ২৫ লাখ এবং ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। রাজধানীর গুলশানে ‘বে ওয়াটার এজ’ নামক ভবনে সুইজারল্যান্ডের তৈরি প্রায় কোটি টাকা দামের শিল্ডার ব্র্যান্ডের লিফট বসানো হয়েছে।

আমদানিকারকেরা বলছেন, প্রতিবছরই লিফটের বাজার বাড়ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেষ করে বড় বড় স্থাপনা তৈরির কাজ যত বাড়বে, ততই বাড়বে লিফটের ব্যবহার। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে ১০ বছর আগে লিফটের যে বাজার ছিল ২০০ কোটি টাকার, বর্তমানে তা ৬০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮১ মিটার উঁচু অট্টালিকা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে লিফট রয়েছে ৭৩টি। এ ছাড়া বিশ্বের উচ্চতম অট্টালিকা বুর্জ খলিফার (৮১৮ মিটার) কোনো কোনো লিফটের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি। তবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি লিফট হিসেবে এখন পর্যন্ত বিবেচিত চীনের ‘বেলং এলিভেটর’। এর দাম ২ কোটি ডলার। প্রতি ডলার ৮৩ টাকা করে হিসাব করলে দাঁড়ায় ১৬৬ কোটি টাকা। ১ হাজার ৭০ ফুট উচ্চতার এ লিফট বসাতে পাঁচ বছর সময় লেগেছে।

ব্র্যান্ডের লিফট

আমদানিকারকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বড় লিফট আমদানিকারক কোম্পানি হচ্ছে মান বাংলাদেশ লিমিটেড। আর ব্র্যান্ডের লিফট আমদানিকারক সর্বশেষ কোম্পানি হচ্ছে খান ব্রাদার্স ইক্যুই-বিল্ড লিমিটেড।

খ্যাতিমান উপস্থাপক হানিফ সংকেতের ভাই প্রয়াত হাবিবুর রহমান আশির দশকের মাঝামাঝি চীন থেকে লিফট আমদানি শুরু করেন। এলজিএস ও স্নাইডার ব্র্যান্ডের লিফট হচ্ছে মান বাংলাদেশের প্রধান পণ্য। মোট বাজারের ৩০ শতাংশ কোম্পানিটির দখলে।

জাপানের ব্র্যান্ড মিতসুবিশি আমদানিকারক ইলেকট্রোমেক টেকনিক্যাল অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড। এ কোম্পানির দখলে রয়েছে ১৫ শতাংশ। আর সুইজারল্যান্ডের শিল্ডার ব্র্যান্ডের লিফটের আমদানিকারক ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড, যার দখলে রয়েছে বাজারের ১০ শতাংশ।

এ ছাড়া খান ব্রাদার্স ইক্যুই-বিল্ড লিমিটেড আমদানি করে দক্ষিণ কোরিয়ার সিগমা ব্র্যান্ডের লিফট। এর দখলে রয়েছে ৯ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের মোট লিফট চাহিদার অর্ধেকের বেশি মেটাচ্ছে এই চারটি কোম্পানি।

এর বাইরে চীনের এসআরএইচ ও এমপি ব্র্যান্ডের লিফট আমদানিকারক কোম্পানির নাম প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রপার্টি লিফট, জাপানের তোশিবা ব্র্যান্ডের লিফটের আমদানিকারক সিবাটেক করপোরেশন এবং ফিনল্যান্ডের কোন ব্র্যান্ডের লিফটের আমদানিকারক নগর এলিভেটরস। এই আমদানিকারকদের দখলে রয়েছে মোট বাজারের ২ থেকে ৩ শতাংশ। বাজারের বাকি চাহিদা মেটে স্থানীয় সংযোজনকারী বা নন-ব্র্যান্ড লিফটের মাধ্যমে। খরচ কমানোর বিবেচনায় অনেকেই এই নন-ব্র্যান্ড লিফট কিনে থাকে।

খান ব্রাদার্স ইক্যুই-বিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তোফায়েল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, বড় বড় অট্টালিকা উঠছে, আরও উঠবে। নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় এগুলোয় ব্র্যান্ডের লিফট বসানো দরকার এবং পরে এগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দরকার।’

জীবন-মৃত্যু বা দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় ব্র্যান্ডের লিফট ব্যবহারের পরামর্শ দেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, ‘আগে নিরাপত্তা, তারপর অর্থ। কিন্তু লিফট স্থাপনের ক্ষেত্রে এটা অনেকেই ভুলে যান।’


সরকারি চাকরিজীবী ৫% সুদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা গৃহঋণ পাবেন

The Daily Prothom Alo, 31 July 2018

সরকারি চাকরিজীবীরা মাত্র ৫ শতাংশ সরল সুদে (সুদের ওপর কোনো সুদ আদায় করা হবে না) সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারবেন। গতকাল সোমবার ‘সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, গৃহ নির্মাণ ঋণ নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৬ বছর করা হয়েছে। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।

নীতিমালায় সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৭৫ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ঋণ ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। ঋণের সুদ গড়ে ১০ শতাংশ ধরে বলা হচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে সুদ নেওয়া হবে ৫ শতাংশ। বাকি অংশ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হবে। ঋণের বিপরীতে সুদের ওপর সুদ, অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি সুদ নেওয়া হবে না। এ ছাড়া কোনো ‘প্রসেসিং ফি’ বা আগাম ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ‘অতিরিক্ত ফি’ দিতে হবে না। ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ২০ বছর।Eprothomalo

শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই নীতিমালা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও কর্তৃপক্ষগুলোয় যাঁরা স্থায়ী পদে চাকরি করেন, তাঁদেরই দেওয়া হবে এই ঋণসুবিধা। সামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি, পৃথক বা বিশেষ আইন দ্বারা তৈরি প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মচারীরা এ নীতিমালার বাইরে থাকছেন। সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক, খণ্ডকালীন ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত কেউ এই ঋণ পাবেন না।

তবে কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকলে বা দুর্নীতি মামলার ক্ষেত্রে অভিযোগপত্র দাখিল হলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঋণের অযোগ্য হবেন। তবে ফ্ল্যাট কেনা বা নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে নিজেদের অন্তত ১০ শতাংশ টাকা থাকতে হবে। তৈরি ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ঋণের পুরো অর্থ এক কিস্তিতে ছাড় করবে ব্যাংক। তবে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে ঋণের টাকা ছাড় করা হবে চার কিস্তিতে।

জাতীয় বেতনকাঠামোর পঞ্চম থেকে প্রথম ধাপে (গ্রেড) বেতন-ভাতা পাওয়া সরকারি কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে বাড়ি তৈরিতে ঋণ পাবেন ৭৫ লাখ টাকা। জেলা সদরে বাড়ি তৈরি বা ফ্ল্যাট কেনায় ঋণের অঙ্ক হবে ৬০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা।

নবম থেকে ষষ্ঠ ধাপে বেতন-ভাতা পাওয়া কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদর এলাকার জন্য ৬৫ লাখ, জেলা সদরে ৫৫ লাখ ও অন্যান্য এলাকার জন্য ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। দশম থেকে ত্রয়োদশ ধাপের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৫৫ লাখ, জেলা সদরে ৪০ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

চতুর্দশ থেকে সপ্তদশ ধাপের কর্মচারীরা ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৪০ লাখ, জেলা সদরে ৩০ লাখ ও অন্যান্য এলাকার জন্য ২৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। অষ্টাদশ থেকে বিংশতম ধাপের কর্মচারীরা পাবেন ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরের জন্য ৩০ লাখ টাকা, জেলা সদরে ২৫ লাখ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ২০ লাখ টাকা ঋণ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর চাকরি আছে—এমন সরকারি চাকরিজীবী বর্তমানে ৭ লাখ। তাঁদের মধ্যে ১০ শতাংশকে ঋণ দেওয়া হলেও বছরে আবেদনকারী দাঁড়াবে ৭০ হাজার জন। গড়ে প্রতিজনের ঋণ ৪০ লাখ টাকা ধরলেও বছরে দাঁড়াবে ২৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারকে বছরে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হবে।

সদ্যবিদায়ী অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৪ এপ্রিল সচিবালয়ে এই নীতিমালা-সংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক হয়। অর্থ বিভাগ ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে খসড়া নীতিমালা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য প্রথমে মন্ত্রিসভার বৈঠক এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায়। সম্প্রতি তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পায়। আর গতকাল তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

 

Real estate sales picking up

The Daily Star, 19 Dec 2017

Realtors are expecting the property market to flourish in 2018 as sales have finally started to pick up this year upon banks’ slashing of interest rates to single digits.

The relative political calm, the bearish trend in the stock market and a lack of solid investment options also drove sales in 2017, leading to a price spiral in almost all areas save for Gulshan and Baridhara in the capital.

“I think the real estate sector will get a boost next year,” said Toufiq M Seraj, managing director of Sheltech, one of the leading developers in Bangladesh.

Seraj, who closely follows the property market, said the sector has started to pick up — although slowly — from July.

While no accurate data is available yet on the sales of homes, commercial spaces and land in the outgoing year, the Real Estate & Housing Association of Bangladesh said the sector grew 5-7 percent in 2017, bucking the downturn of the last several years.

“2017 has been much better than 2016 and 2015,” Seraj said.

The housing market went on a downturn in 2012 for intermittent political instability, a bearish stock market and the government’s apathy towards providing gas connections to new buildings.

Developers said the property price corrections in the past few years have lured in many prospective home buyers.

Prices hit rock-bottom at the beginning of 2017, after which it started to pick up little by little, Seraj said.

The construction of relatively smaller flats by major developers also attracted the middle-class and fixed income groups.

“The real estate sector is repositioning itself. The apartment prices have also seen correction. And we the developers have paid attention to design features in line with the customers’ demands,” he added.

The prices have increased by Tk 200-500 per square feet this year in almost all areas except for Gulshan and Baridhara, said AKM Shafiuddin Shahin, sales in-charge of Structural Engineers Ltd.

“This is because of increased demand.”

Shahin went on to link the relative political calm in 2017 for the pick up in property sales. “People tend to hold back on making new investments during times of political instability.”

However, the demand for luxury apartments has not increased, according to developers. “It appears that a section of the rich people is more interested in owning a second home abroad,” he added.